বাংলাদেশে বৈধ মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং তালিকাভুক্তির জন্য করণীয় কি?

This page was last updated on 05-Feb-2026 05:50pm , By Badhan Roy

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলগুলিতে বর্তমানে দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য রাইড শেয়ারিং সার্ভিস খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই শখের বশে কিংবা জীবিকার তাগিদে রাইড শেয়ারিং করে অর্থ উপার্জন করছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, বৈধভাবে মোটরসাইকেল সহ যে কোন যানবাহনে রাইড শেয়ারিং করতে চাইলে এনলিস্টমেন্ট বা তালিকাভুক্তি করা অতি জরুরি? বৈধভাবে তালিকাভুক্তি না করা থাকলে আপনার বিরুদ্ধে মামলা ও আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হতে পারে। 

আজ আমরা এ বিষয়ে সরকার ঘোষিত নীতিমালা ও এর আবেদন পদ্ধতি বিষয়ে জানার চেষ্টা করব। 

বাংলাদেশে বৈধ মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং নীতিমালাতে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক

২০১৮ সালে সরকার রাইড শেয়ারিং নীতিমালা – ২০১৭ নামে একটি গেজেট প্রকাশ করে। এই গেজেট এর অনুচ্ছেদ – ঘ (১) এ বলা হয়েছে “কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাইভেট মোটরযানের অনুকূলে প্রদত্ত রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ব্যতীত কোনো রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা মোটরযানের মালিক বা চালক কোনো মোটরযান দ্বারা রাইডশেয়ারিং সার্ভিস পরিচালনা করতে পারবে না”। 

অর্থাৎ এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার, রাইড শেয়ারিং এর জন্য নিবন্ধনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাইড শেয়ারিং করতে হলে অবশ্যই কোন না কোন অ্যাপভিত্তিক সেবার সাথে যুক্ত হতে হবে। অ্যাপস ব্যাতিত বৈধভাবে রাইড শেয়ারের কোন প্রকার সুযোগ নেই। 


আবেদনের জন্য কি কি প্রয়োজন?

রাইড শেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট এর জন্য কর্তৃপক্ষ তথা বিআরটিএ এর ওয়েবসাইটে ইনস্টলকৃত ওয়েবপোর্টাল (bsp.gov.bd) এর মাধ্যমে অনলাইনে কর্তৃপক্ষের নিকট ফরম-গ অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। আবেদনের সাথে মোটরযানের নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি দাখিল করতে হবে :

(ক) রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট;

(খ) হালনাগাদ ফিটনেস সার্টিফিকেট;

(গ) হালনাগাদ ট্যাক্সটোকেন;

(ঘ) চালকের হালনাগাদ ড্রাইভিং লাইসেন্স;

(ঙ) মালিক ও চালক উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র;

(চ) মালিকের টিআইএন সার্টিফিকেট।  


কত টাকা ফি জমা দিতে হবে?

রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট একবারে সর্বোচ্চ ৩ (তিন) বছর মেয়াদে প্রদান করা যাবে। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করা যাবে। প্রতি বছরের জন্য রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট ফিস হবে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ (পাঁচশত) টাকা এবং অন্যান্য মোটরযানের ক্ষেত্রে ১০০০ (এক হাজার) টাকা। 

আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক ফরম-ঘ অনুযায়ী অনলাইন রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদান করবে। এই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট প্রদর্শনপূর্বক সড়কে মোটরসাইকেল সহ নির্ধারিত অন্যান্য যানবাহনে রাইড শেয়ারিং করতে পারবেন। 

রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কিংবা নষ্ট হয়ে গেলে ১০০০ (এক হাজার) টাকা ফি প্রদানপূর্বক প্রতিলিপি সংগ্রহ করা যাবে। 

 

এনলিস্টমেন্ট ব্যাতিত রাইড শেয়ার করলে কি ধরণের শাস্তি হতে পারে?

এ নীতিমালার কোনো শর্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বা এ নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত নির্দেশনার কোনো ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো রাইডশেয়ারিং মোটরযান মালিক বা চালক কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্টে সার্টিফিকেট বাতিল ও মোটরযানের রাইডশেয়ারিং কার্যক্রম বন্ধ করাসহ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ধারা ১০৪ এ বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ১২৪ এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশনা এবং প্রণীত নীতিমালায় প্রদত্ত নির্দেশনা লঙ্ঘন করেন তবে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাসের কারাদণ্ড, বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। 

পাশাপাশি, একজন রাইড শেয়ারিং কারী মোটরযান চালককে সড়কে চলাচলের অন্যান্য সকল নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। অতএব, বাইকার সহ অন্যান্য সকল মোটরযান চালকদের প্রতি আমাদের আহবান, আইনগত জটিলতা এড়াতে বৈধভাবে রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট গ্রহণ করে বৈধভাবে রাইড শেয়ারিং করুন। 

 

বাইক বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেটের জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।