টিম বাইকবিডি এবং রেইনবো পেইন্টস টিম সবার ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে নিরাপত্তার সার্থে কাজ করেছি তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত। আমরা বাইকবিডি টিম ৪ টি বাইকে ৫ জন ঢাকা - তেতুলিয়া - টেকনাফ - ঢাকা রাইড করি ।


আমাদের স্লোগান ছিল "চলুন ঈদে নিরাপদে বাড়ি ফিরি" "জীবনের রঙে জীবন বাঁচাই"
BikeBD.com & Rainbow Paints BD এর যৌথ উদ্যোগে সকলের ঈদ যাত্রা কে নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে টীম বাইক বিডি গিয়েছিলাম তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ।

তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ - টিম বাইকবিডি এবং রেইনবো পেইন্টস বিডি
পথে আমরা চেষ্টা করেছি যতো গুলো স্পীড ব্রেকার / রোড সাইন এর রঙ মুছে গিয়েছে সেগুলো মার্ক করার । আমরা মার্ক করেছি আর রেইনবো পেইন্টস এর টীম সেই স্পীড ব্রেকার / রোড সাইন গুলো রঙ করেছে ।


আমরা ঢাকা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু করি । দুপুর ৩ টায় ঢাকা থেকে রাইড শুরু করে চন্দ্রা , টাঙ্গাইল হয়ে চলেযাই যমুনা ব্রিজে । কিছুক্ষন বিরতি নিয়ে চলেযাই সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজে । ততক্ষনে ইফতারের সময় হয়ে যায় ।
তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পার্ট - ১ (ঢাকা - দিনাজপুর) Rainbow Paints BD & Team BikeBD
ইফতার করে আবার রাইড শুরু করি , উদ্দেশ্য গোবিন্দগঞ্জ । গোবিন্দগঞ্জ গিয়ে একটা চায়ের বিরতি দেই । এরপর রাইড শুরু করি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে । পথে প্রচুর কুয়াশার কারনে আমাদের বাইকের স্পিড স্লো হতে শুরু করে ।

দিনাজপুরের ৩০ কিলোমিটার আগে থেকে এত কুয়াশা শুরু হয় যা আমাদের রাইড বন্ধ করতে বাধ্য করে । রাতের খাবার খেয়ে ১ টার দিকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই । প্রচন্ড কুয়াশায় বাইকের গতি ৩০-৩৫ এর উপর তুলা যাচ্ছিলনা ।

রাত ৩ টায় দিনাজপুর হোটেলে পৌঁছাই । সকাল ৯ টায় ঘুম থেকে উঠে রওনা হই পঞ্চগড় এর উদ্দেশ্যে । দিনাজপুর থেকে আমাদের সাথে যোগ দেয় আমাদের টিম মেম্বার সালে ভাই । যাওয়ার পথে আমরা রাস্তার বিপদজনক স্থান গুলো মার্ক করি ।

পঞ্চগড় করতোয়া ব্রিজের ঢালে আমরা উপস্থিত থেকে রেইনবো টীমকে সাথে নিয়ে স্পিড ব্রেকারে কালার করি । এর পরে মার্ক করতে করতে চলেযাই তেতুলিয়া জিরো পয়েন্টে । সেখান থেকে বিকাল ৪ টায় আমরা টেকনাফ এর উদ্দেশ্যে রাইড শুরু করি ।
শুধু রাইড আমাদের উদ্দেশ্যে ছিলনা আমরা পথের বিপদজনক জায়গা গুলো রোড সাইন এবং আন মার্ক স্পিড ব্রেকার গুলো খুজতেছিলাম । নীলফামারি গিয়ে সিদ্ধান্ত নেই আমরা রাতে রংপুর থাকবো । সালেভাই এর বাসায় রাতে থাকলাম ।
Also Read: ভয়ংকর সুন্দর (দ্য রাঙামাটি রাইড) ভ্রমন অভিজ্ঞতা
৩য় দিন সকালে রংপুর থেকে রওনা হই । বগুড়ার প্রচন্ড ভাংগা রাস্তায় আমাদের খুব কষ্ট হয়ে যায় । তবুও সামনে চলতে থাকি । সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টে ইফতারি করি । এরপর আবার রাইড শুরু করি ।

গাজীপুর বাইপাসে প্রচন্ড জ্যামে খুব কষ্ট হয়ে যায় । সিদ্ধান্ত নেই কুমিল্লা পর্যন্ত যাবো । কুমিল্লা পৌঁছাই রাত ৩ টায় । সেহেরী করে হোটেলে গিয়ে ঘুমিয়ে যাই । সকাল ১০ টার দিকে কক্সবাজার এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি ।

পথে চট্রগ্রাম কর্নফুলী ব্রীজের স্পিড ব্রেকার গুলো রেইনবো টিমকে সাথে নিয়ে কালার করি । ইফতারের পরে রওনা হই কক্সবাজার এর উদ্দেশ্যে । রাত ১১ টায় গিয়ে কক্সবাজার পৌছাই ।
৪র্থ দিন সকালে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ এর উদ্দেশ্যে রাইড শুরু করি । পথে আমরা মেরিন ড্রাইভ রোডে ৩ টি পয়েন্টে স্পিড ব্রেকারে কালার করি । টেকনাফ গিয়ে পৌছাই বিকাল ৪ টায় ।

টেকনাফ থেকে রাইড শুরু করে কক্সবাজার চলে আসি । ডলফিন মোড়ে ইফতারি করার পরে রওনা হই ঢাকার উদ্দেশ্যে । পথে আমরা চকরিয়াতে একটি স্পিড ব্রেকারে কালার করি । যদিও রানিং হাইওয়েতে রাতের বেলা এটা করা বিপদজনক ছিল তবুও আমরা মাদের বেস্ট ট্রাই করেছি ।
ফেনী আসি রাত ৩ টায় । সেহেরি করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই । সকাল ৮ টায় ঢাকা এসে পৌছাই । আমরা চেষ্টা করেছি এই রাইডের মাধ্যেমে রেইনবো পেইন্টস কে আন মার্ক স্পিড ব্রেকার গুলোর লোকেশন যানাতে । তারা এগুলো কালার করে দিয়েছে ।

আমরা ৫ দিনে ১৬ টি জেলায় ২০০০ কিলোমিটার রাইড করি । আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ছিল সবাই যেন রোড সাইন / স্পীড ব্রেকার গুলো দূর থেকে দেখতে পারে। যাতে মানুষ এক্সিডেন্ট থেকে কিছুটা পরিত্রান পায়। এবং সবার ঈদ যাত্রা যাতে নিরাপদ হয়। ধন্যবাদ ।
তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ পার্ট - ৪ (কুমিল্লা - টেকনাফ) Rainbow Paints BD & Team BikeBD
আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।




























Discussion 8 Comments