Shares 2

Bajaj Pulsar N160 বাইক নিয়ে রাইডিং অভিজ্ঞতা - আব্দুল্লাহ

Last updated on 26-Aug-2025 , By Shuvo Bangla

আমি আব্দুল্লাহ আজ আপনাদের সাথে আমার Bajaj Pulsar N160 বাইকের রাইডিং অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো । বাংলাদেশে ১৬০ সিসি সেগমেন্টের মধ্যে Bajaj Pulsar N160 একটি জনপ্রিয় নাম। আমি বর্তমানে ব্যবহার করছি Pulsar N160 (FI ABS, 2025 মডেল), যার ইঞ্জিন ১৫.৬৯ BHP পর্যন্ত পাওয়ার দেয় ৮৭৫০ RPM-এ । এই দামে এমন স্পেসিফিকেশন সত্যিই চমকপ্রদ। এর ফিচারও বেশ আধুনিক ফুল ডিজিটাল মিটার, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, অ্যাভারেজ ফুয়েল মাইলেজসহ আরও কিছু আপডেটেড অপশন রয়েছে।

Bajaj Pulsar N160 একজন রাইডারের বাস্তব রাইডিং অভিজ্ঞতা

বাইক কেনার মুহূর্ত -

বাইক কেনার দিনটা একজন রাইডারের জন্য সবসময়ই বিশেষ। আমার ক্ষেত্রেও তাই। সেদিন ছিল মেঘলা আকাশ, হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। তবুও নতুন বাইকের চাবি হাতে নিয়ে রাস্তায় নামার অনুভূতি এককথায় অসাধারণ ছিল।

Also Read: Motorcycle Price In Bangladesh

সার্ভিসিং ও সাপোর্ট -

এখন পর্যন্ত বাইকটি দিয়ে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার রাইড করেছি। সার্ভিসিং ও কাগজপত্রের কাজ সবসময়ই পেয়েছি ময়মনসিংহের Arham Motors-এর বাবু ভাইয়ের দারুণ সহযোগিতা। সার্ভিস কোয়ালিটি নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে -

  • ডুয়েল চ্যানেল ABS – সামনে ৩০০ mm ও পেছনে ২৩০ mm ডিস্ক ব্রেক, দুর্দান্ত ব্রেকিং পারফরম্যান্স।
  • প্রজেকশন LED হেডলাইট – হাইওয়ে ও সিটিতে অতিরিক্ত ফগ লাইট লাগানোর দরকার হয়নি।
  • এক্সিলারেশন – ওভারটেক করার সময় বাইকের পাওয়ার স্পষ্টভাবে ফিল হয়।

যেটা একটু অসুবিধা -

  • বাইকটি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ওয়েটি।
  • আমার হাইট ৫ ফুট ৪ হওয়ায় টার্নিং বা সিটিতে হ্যান্ডেলিংয়ে মাঝে মাঝে কষ্ট হয়।

সাজেশন থাকবে নতুন বাইকাররা কেনার আগে অবশ্যই টেস্ট রাইড করে নেবেন।মাইলেজ -

  • সিটিতে: ৪৩–৪৪ কিমি/লিটার
  • হাইওয়েতে: ৫১–৫২ কিমি/লিটার

একটি পাওয়ারফুল বাইক থেকে এমন মাইলেজ পাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।

Also Read: Bajaj Bike Price in Bangladesh

প্রথম দিকে লং রাইডে হাতে সামান্য ব্যথা হতো, তবে এখন আর তা হয় না। সিটিং পজিশন স্পোর্টি ও আরামদায়ক। সাসপেনশন সফ্ট ও ব্রেকিং স্মুথ। পিলিয়ন থাকলেও ওয়েট ব্যালান্স ভালো থাকে। সব মিলিয়ে বাইকটি লং ট্যুর ও সিটি রাইড দুটোর জন্যই যথেষ্ট কমফোর্টেবল।

কেন এই বাইক বেছে নিয়েছি -

বাজেটের মধ্যে দারুণ লুক, ফিচার ও পারফরম্যান্স। ডুয়েল চ্যানেল ABS, FI ইঞ্জিন, শক্তিশালী এক্সিলারেশন। দাম: ২,৬২,০০০ টাকা। Pulsar N160 আমার মতে একটি “কমপ্লিট প্যাকেজ”। 

Bajaj ব্র্যান্ড বাংলাদেশের বাইকারদের কাছে আলাদা আস্থা তৈরি করেছে CT100, Boxer, Discover, Pulsar সব মডেলই দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয়। সহজলভ্য পার্টস, ভালো সার্ভিসিং ফ্যাসিলিটি ও ব্র্যান্ড রিলায়েবিলিটি সবকিছু মিলে এটি বিশ্বাসযোগ্য।

আমার সার্বিক মতামত আমি এই বাইকটিকে ১০-এর মধ্যে ৯.৫ দেবো। এই বাজেটে লুক, ফিচার, ব্রেকিং, পারফরম্যান্স ও মাইলেজ সব মিলে এটি নতুন রাইডারদের জন্যও এবং অভিজ্ঞ রাইডারদের জন্যও একটি সেরা চয়েস হতে পারে। ধন্যবাদ । 

লিখেছেনঃ  আব্দুল্লাহ

আপনিও আমাদেরকে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠাতে পারেন। আমাদের ব্লগের মাধ্যেম আপনার বাইকের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা সকলের সাথে শেয়ার করুন! আপনি বাংলা বা ইংরেজি, যেকোন ভাষাতেই আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ লিখতে পারবেন। মালিকানা রিভিউ কিভাবে লিখবেন তা জানার জন্য এখানে ক্লিক করুন এবং তারপরে আপনার বাইকের মালিকানা রিভিউ পাঠিয়ে দিন articles.bikebd@gmail.com – এই ইমেইল এড্রেসে।

Published by Shuvo Bangla