বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইক কি বৈধ? সর্বশেষ নিয়ম
This page was last updated on 06-Apr-2026 03:10pm , By Rafi Kabir
রাস্তায় এখন তেলের বাইকের পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রিক বাইক বা ই-বাইক দেখা যাচ্ছে। কিন্তু অনেকদিন ধরেই একটা ধোঁয়াশা ছিল যে এই বাইকগুলো আসলে বৈধ কি না কিংবা এগুলো চালাতে লাইসেন্স লাগবে কি না। বিশেষ করে যারা নতুন ই-বাইক কেনার কথা ভাবছেন তারা বেশ চিন্তায় থাকেন যে পুলিশ ধরবে কি না বা বিআরটিএ থেকে কোনো ঝামেলা হবে কি না। ২০২৬ সালে এসে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একদম পরিষ্কার কিছু নিয়ম চলে এসেছে। চলুন আজ একদম সহজ ভাষায় জেনে নেই বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইকের বর্তমান আইনি অবস্থা কী।
ই-বাইক কি এখন সম্পূর্ণ বৈধ
এক কথায় উত্তর হলো হ্যাঁ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ এখন ইলেকট্রিক বাইককে বৈধতা দিয়েছে। আগে এগুলোকে অনেকটা সাইকেলের মতো মনে করা হলেও এখন এগুলোকে মোটরযান হিসেবেই গণ্য করা হয়। তবে সব ধরণের ই-বাইক কিন্তু একই নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আপনি যদি হাই-পাওয়ার বা শক্তিশালী মোটরের বাইক চালান তবে সেটি অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে। সরকার পরিবেশবান্ধব যাতায়াত উৎসাহিত করতে ই-বাইকের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে তাই এটি এখন পুরোপুরি আইনসম্মত একটি বাহন।

রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের নিয়ম

২০২৩ সালের ইলেকট্রিক মোটরযান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী এখন যেকোনো শক্তিশালী ইলেকট্রিক বাইক রাস্তায় নামাতে হলে বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তেলের বাইকের যেমন নম্বর প্লেট থাকে আপনার ই-বাইকের জন্যও তেমন নম্বর প্লেট নিতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার প্রক্রিয়াটিও অনেকটা সাধারণ বাইকের মতোই। তবে ই-বাইকের ক্ষেত্রে সিসি বা ইঞ্জিনের ক্ষমতা নেই বরং এখানে মোটরের ওয়াট বা পাওয়ার দেখা হয়। আপনার বাইকটি যদি একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি শক্তিশালী হয় তবে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ।
ড্রাইভিং লাইসেন্স কি বাধ্যতামূলক
অনেকেই মনে করেন ইলেকট্রিক বাইক চালাতে বোধ হয় লাইসেন্স লাগে না। কিন্তু নিয়ম বলছে যেহেতু এটি একটি মোটরযান এবং এটি রাস্তায় বেশ গতিতে চলে তাই এটি চালাতে অবশ্যই আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। রাস্তায় চলাচলের সময় পুলিশ আপনার কাছে লাইসেন্স দেখতে চাইতে পারে। তাই নিজেকে এবং অন্যদের নিরাপদ রাখতে এবং আইনি ঝামেলা এড়াতে লাইসেন্স ছাড়া ই-বাইক নিয়ে রাস্তায় না নামাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
হেলমেট এবং ট্রাফিক আইন
ইলেকট্রিক বাইক চালানো মানেই আপনি ট্রাফিক আইনের ঊর্ধ্বে নন। সাধারণ বাইক চালকদের মতো আপনার মাথায়ও সার্টিফাইড হেলমেট থাকতে হবে। রাস্তায় সিগন্যাল মেনে চলা এবং উল্টো পথে না চলার মতো সব ট্রাফিক আইন আপনার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। নিয়ম ভাঙলে তেলের বাইকের মতো আপনার ই-বাইকের নামেও মামলা হতে পারে। তাই ই-বাইক চালালেও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা জরুরি।
হাইওয়েতে চলাচলের বিধিনিষেধ
সব ইলেকট্রিক বাইক কিন্তু হাইওয়েতে বা বড় রাস্তায় চলার অনুমতি পায় না। বিশেষ করে যেগুলোর গতি অনেক কম বা যেগুলোকে আমরা ই-সাইকেল বলি সেগুলো শুধু এলাকার ভেতরের রাস্তায় চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ভালো মানের ব্র্যান্ডেড ই-বাইক যেগুলো রেজিস্ট্রেশন করা আছে সেগুলো নির্ধারিত গতিসীমা মেনে মহাসড়কে চলতে পারে। কেনার সময় অবশ্যই জেনে নেবেন আপনার বাইকটি কোন ধরণের রাস্তায় চলার উপযোগী।
পরিশেষে বলা যায় যে বাংলাদেশে ইলেকট্রিক বাইক এখন আর অবৈধ কোনো বাহন নয়। সরকার এই খাতকে সুশৃঙ্খল করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে বেশ কিছু ভালো নিয়ম চালু করেছে। আপনি যদি বৈধ কাগজপত্র এবং লাইসেন্স নিয়ে রাস্তায় বের হন তবে পুলিশ বা আইনি কোনো ঝামেলায় পড়ার ভয় নেই। যাতায়াত খরচ কমাতে এবং ঝামেলামুক্ত থাকতে ই-বাইক এখন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি চমৎকার সমাধান।