বাড়িতে নিজেই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল যেভাবে পরিবর্তন করবেন
This page was last updated on 14-May-2026 06:08pm , By Badhan Roy
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন পরিচালনার জন্য ইঞ্জিন অয়েল অত্যাবশ্যক উপাদান। ইঞ্জিন অয়েল শুধু ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশে লুব্রিকেশনই দেয় না বরং এটি ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখা, ঘর্ষণ কমানো এবং ময়লা পরিষ্কার করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো অয়েল পরিবর্তন না করলে ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিও হতে পারে।
অনেকেই মনে করেন ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা জটিল কাজ। তবে প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম থাকলে ঘরে খুবই সহজে এটি করা সম্ভব। আজ আমরা জানবো কিভাবে খুব সহজে বাড়িতে নিজেই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল যেভাবে পরিবর্তন করবেন।


বাড়িতে নিজেই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল যেভাবে পরিবর্তন করবেন
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের আগে কয়েকটি জিনিস প্রস্তুত রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ অথবা ১৭ মি.মি একটি রেঞ্চ বা সকেট, ফানেল, পুরোনো অয়েল রাখার পাত্র, পরিষ্কার কাপড়, নতুন ইঞ্জিন অয়েল, প্রয়োজন অনুযায়ী অয়েল ফিল্টার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা হলো মোটরসাইকেলের ম্যানুয়াল অনুযায়ী সঠিক গ্রেডের অয়েল ব্যবহার করা।
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল যেভাবে পরিবর্তন করবেন
প্রথমে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন দুই থেকে তিন মিনিট আইডল আরপিএম এ রেখে হালকা গরম করে নিতে হবে। এতে ড্রেন দেওয়ার সময় পুরোনো অয়েল সহজে বের হয়ে আসে। এরপর মোটরসাইকেলটি সমতল স্থানে ডাবল স্ট্যান্ডে রাখতে হবে। যেসব বাইকে ডাবল স্ট্যান্ড নেই তাদের জন্য প্যাডক ব্যাবহার করলে ভাল হয়।
ইঞ্জিনের নিচে থাকা ড্রেন বোল্ট বরাবর একটি পাত্র রাখতে হবে। ড্রেন বোল্ট খুলে একটি পাত্রে পুরোনো অয়েল বের করে ফেলতে হবে। এ সময় সতর্ক থাকা উচিত কারণ ইঞ্জিন অয়েল গরম থাকতে পারে। সম্পূর্ণ পুরাতন অয়েল বের হতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে। এরপর অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন অথবা অয়েল স্ট্রেইনার থাকলে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। তারপর ড্রেন বোল্ট পুনরায় ভাল করে লাগিয়ে নতুন অয়েল ঢালতে হবে।


উল্লেখ্য, ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার সময় ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা পরিমাণ দেওয়া জরুরি। ব্র্যান্ড ও মডেল ভেদে কোন ইঞ্জিনে ৮৫০ মি.লি অয়েল যায়, কোন ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা আবার ১২০০ মি.লি, হায়ার সিসির বাইকগুলোতে এই পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। আমরা অনেকেই মনে করি গড়ে সকল বাইকে ১ লিটার ইঞ্জিন অয়েল লাগে যা একটি ভুল ধারনা।
নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম বা অতিরিক্ত অয়েল ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অয়েল দেওয়ার পর ডিপস্টিক বা সাইট গ্লাস দিয়ে অয়েল লেভেল ঠিক আছে কি না চেক করতে হবে। এরপর ইঞ্জিন চালু করে কয়েক মিনিট রেখে দেখতে হবে কোথাও লিক হচ্ছে কি না।
যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
অনেকেই ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের সময় কিছু সাধারণ ভুল করেন। যেমন ভুল গ্রেডের অয়েল ব্যবহার, কম বা অতিরিক্ত অয়েল দেওয়া কিংবা ড্রেন বোল্ট বেশি টাইট করে লাগিয়ে ফেলা। এ ছাড়া নিম্নমানের বা নকল অয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল কখন অয়েল পরিবর্তন করবেন
সম্ভবত আমাদের আলোচনার সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন কত কিলোমিটার পর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হয় – এই বিষয় টা। ব্যাপার টা আসলে নির্ভর করে অয়েলের ধরন ও ব্যবহারের ওপর। সাধারণত মিনারেল অয়েল ১-১.৫ কিলোমিটার, সেমি সিনথেটিক ২-৩ হাজার কিলোমিটার এবং ফুল সিনথেটিক অয়েল ৩-৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। তবে ভালমানের ইঞ্জিন অয়েল ভালভাবে ব্যাবহার করলে ও টপ আপ করলে ড্রেন পিরিয়ড বাড়তে পারে।
নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন মোটরসাইকেলের পারফরম্যান্স ভালো রাখার পাশাপাশি ইঞ্জিনের আয়ুও বাড়াতে সাহায্য করে। সার্ভিসিং সেন্টারের উপর অন্ধবিশ্বাস না রেখে নিজেরা এরকম টুকটাক কাজ করলে নিজের কাছেই বেশ ভাল লাগে।
বাইক ও বাইকিং বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেট এর জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।