বাংলাদেশে মোটরসাইকেলে ভ্রমণের জন্য ৪টি সুন্দর রোড
This page was last updated on 03-May-2026 03:43pm , By Arif Raihan Opu
আমরা বাইকাররা ভ্রমন করতে বেশ পছন্দ করি। তবে আমাদের দেশটি বেশি বড় নয় আবার ছোটও নয়। আমাদের এখানে এমন কিছু সড়ক/রাস্তা রয়েছে যেখানে মোটরসাইকেল রাইড করা অনেক বেশি আনন্দদায়ক। যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল রাইড করে থাকেন তারা এই রাস্তা গুলোতে বার বার রাইড করতে চলে যান। তাই আজ আমরা আপনাদের এজন্য এমন চারটি সুন্দর সড়ক/রাস্তার কথা জানাব যেখানে সবাই মোটরসাইকেল রাইড করে আনন্দ পেয়ে থাকেন।


বাংলাদেশে জনপ্রিয় এবং সুন্দর ৪টি রোড
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ
শুরু করা যাক সবচেয়ে জনপ্রিয় সড়কটি দিয়ে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হচ্ছে কক্সবাজার। আর এই রাস্তাটি ঠিক কক্সবাজার থেকে শুরু হয়ে এই ৮০ কিলোমিটার সড়কটি বিস্তৃত হয়েছে। এই রাস্তায় যাত্রার সময় একপাশে দেখা যাবে দিগন্ত বিস্তৃত সুবিশাল বঙ্গোপসাগরের নীলাভ পানি।

আর অন্য পাশে আছে সারি সারি পাহাড়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সাগর আর পাহাড়ের অপূর্ব মেলবন্ধনে রাস্তাটি হয়ে হয়ে উঠেছে সবার প্রিয়, বিশেষ ভাবে মোটরসাইকেল রাইডারদের কাছে। মোটরসাইকেলে ভ্রমণের সঙ্গে বাংলাদেশের অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে চাইলে সরাসরি চলে যেতে পারেন এখানে।

সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়ক
ঠিক এরপরে স্থানেই রয়েছে পাহাড়ের সৌন্দর্য। সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়ক। যদিও সড়কটি রামগড়ের জালিয়াপাড়া বাজারে শুরু হয়েছে, তবে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের কাছে এটি সিন্দুকছড়ি রাস্তা হিসেবেই পরিচিত। এই সড়কটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার। সম্প্রতি সড়কটি এর অপূর্ব সৌন্দর্যের জন্য 'বাংলাদেশের লাদাখ' উপাধি পেয়েছে।

জালিয়াপাড়া থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি দেখতে পাবেন পাহাড় আর সবুজের সমারোহ। এরপর আপনি যতই সামনে এগিয়ে যাবেন মনে হবে জায়গাটি যেন কোনো প্রাকৃতিক রোলার কোস্টার। সড়কটির বাঁকে বাঁকে রয়েছে এডভেঞ্চারের ছোঁয়া।
চারপাশে রয়েছে সবুজ চা বাগান, ফলের বাগান আর যত দূর চোখ যায় পাহাড় আর পাহাড়। তবে বর্ষাকালে সড়কটিতে ভ্রমণ না করাই ভালো। কারণ তখন এই সড়কটি কিছুটা পিচ্ছিল ও বিপদজনক হয়ে ওঠে। তাই ভ্রমণে সর্তক থাকা ভাল।
আরও পড়ুনঃ ঢাকার আশেপাশে ৩৪ টি মনোরম জায়গা একদিনে ঘুরে আসার মত
মানিকছড়ি-কাপ্তাই সড়ক
মোটরসাইকেল ভ্রমণের জন্য খাগড়াছড়ির মধ্যে আরেকটি সড়কের খোঁজ দেবো, যা অনেকেরই অজানা। সেই সড়কটি মানিকছড়ি-কাপ্তাই সড়ক। মানিকছড়ির পাশে অবস্থিত আসাম বস্তি থেকে আপনার যাত্রা শুরু করে কাপ্তাই লেক ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যান। ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে একদিকে দেখবেন লেকের শান্ত পানি, আর অন্যদিকে পাহাড়ের সমারোহ।

সড়কটিকে বাস, ট্রাকের মত তেমন ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায় না, শুধু গাড়ি এবং কিছু 'চান্দের গাড়ি' দেখা যায় এখানে। তাই মোটরসাইকেল ভ্রমণের জন্য এই সড়কটি একেবারে উপযুক্ত একটি রাস্তা।
রাস্তাটি জঙ্গল থেকে কাছে হওয়ায় অনেক সময় এখানে হাতি চলাচল করে। তাই এই সড়কে যাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং রাতে এই রাস্তায় না যাওয়াই ভালো।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে সকল মোটরসাইকেলের দাম
চলন বিল সড়ক
এখন কথা বলব উত্তরের সবচেয়ে জনপ্রিয় চলন বিল সড়ক নিয়ে। ঢাকা থেকে শুরু করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে ধরে এগিয়ে যেতে হবে ঢাকা - নাটোর হাইওয়ের দিকে। হাটিকুমরুল হাইওয়েটি সিরাজগঞ্জ রোড নামেও পরিচিত। উত্তরের সবচেয়ে সুন্দর এই সড়ক ধরে ২৫ কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই পৌঁছে যাবেন মহিষলুটি বাজারে।

এখান থেকে ডানে গেলেই অপূর্ব সুন্দর একটি রাস্তা চোখে পড়বে। এই সরু রাস্তার দুই পাশে দেখা মিলবে চলন বিলের স্বচ্ছ অবারিত জলরাশি। দিগন্তে গাছগাছালির সারি এই প্রাকৃতিক দৃশ্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।
এখানে গেলে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে যে, এই সড়কের কিছু অংশ পানির নিচে, যা আপনার যাত্রাকে আরও চ্যালেঞ্জিং ও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বর্ষাকালে চ্যালেঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হয় অপার্থিব সৌন্দর্য। তবে সেই সময় বাড়তি সতর্ক হওয়া উচিত।
এছাড়া আরও বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের ওয়েব সাইট ভিজিট করুন। ধন্যবাদ।
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট