Shares 2

ডেলিভারি রাইডারের বাস্তব আয় রিপোর্ট (EV vs Petrol)

Last updated on 18-Apr-2026 , By Rafi Kabir

বর্তমানে ফুড ডেলিভারি বা কুরিয়ার সার্ভিসে যারা কাজ করেন তাদের জন্য বাইক মানেই আয়ের প্রধান উৎস। কিন্তু দিনশেষে পকেটে কত টাকা থাকছে সেটাই হলো আসল কথা। তেলের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে সাধারণ পেট্রোল বাইক দিয়ে ডেলিভারি করে লাভ করাটা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ইলেকট্রিক বাইক বা ই-ভি (EV) ডেলিভারি রাইডারদের জন্য কতটা লাভজনক হতে পারে সেই হিসাবটাই আজ আপনাদের সামনে একদম সহজভাবে তুলে ধরব।


নিচে পেট্রোল বাইক আর ই-ভি এর আয়ের একটা বাস্তব তুলনা দেওয়া হলো যা থেকে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।


তেলের খরচ বনাম বিদ্যুতের খরচ

একজন ডেলিভারি রাইডারকে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বাইক চালাতে হয়। এই পথ সাধারণ পেট্রোল বাইকে চলতে গেলে প্রতিদিন অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার তেল লাগে। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে একই দূরত্ব একটা ভালো মানের ই-ভি দিয়ে পার করতে বিদ্যুৎ খরচ হবে মাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ মাসে আপনার খরচ হবে ১০০০ টাকারও কম। এখানেই ই-ভি রাইডাররা তেলের রাইডারদের চেয়ে মাসে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা এগিয়ে থাকেন।


সার্ভিসিং এর বাড়তি ঝামেলা

ডেলিভারি রাইডারদের বাইক সারাদিন চলে বলে খুব দ্রুত ইঞ্জিন অয়েল পাল্টাতে হয় এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করতে হয়। পেট্রোল বাইকে মাসে অন্তত এক বা দুইবার সার্ভিসিং আর পার্টস পরিবর্তনের পেছনে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা চলে যায়। ই-ভি তে যেহেতু কোনো ইঞ্জিন নেই তাই অয়েল পাল্টানোর বা জটিল কোনো পার্টস মেরামতের ঝামেলা নেই। শুধু টায়ার আর ব্রেক ঠিক রাখলেই চলে। এতে করে রাইডারের কষ্টার্জিত টাকার একটা বড় অংশ বেঁচে যায়।


জ্যামে কার কত সাশ্রয়

শহরের জ্যামে ডেলিভারি দেওয়া মানেই হলো ইঞ্জিনের তেল অযথা পুড়ে যাওয়া। জ্যামে বসে থাকলেও পেট্রোল বাইকের ইঞ্জিন চালু রাখতে হয় যা সরাসরি লস। কিন্তু ই-ভি এর ক্ষেত্রে জ্যামে বসে থাকলে এক টাকারও চার্জ নষ্ট হয় না। ডেলিভারি রাইডারদের জন্য এটা একটা বিশাল সুবিধা কারণ তাদের দিনের অনেকটা সময় ট্রাফিক সিগন্যালেই পার করতে হয়।


ডেলিভারি প্রতি নিট মুনাফা

সব খরচ বাদ দিলে দেখা যায় একজন পেট্রোল বাইক রাইডার যদি দিনে ১৫০০ টাকা আয় করেন তবে তার পকেটে থাকে বড়জোর ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা। কিন্তু একজন ই-ভি রাইডার ১৫০০ টাকা আয় করলে তার পকেটে ১৪০০ টাকার বেশি থাকে। কারণ তার জ্বালানি আর মেইনটেন্যান্স খরচ নেই বললেই চলে। মাস শেষে এই পার্থক্যটা অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায় যা রাইডারের জীবনযাত্রার মান বদলে দিতে পারে।


ই-ভি ব্যবহারে কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা

সবকিছুরই যেমন ভালো দিক আছে ই-ভি এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রাইডারদের মাথায় রাখতে হয়। যেমন চার্জ শেষ হয়ে গেলে পেট্রোল পাম্পের মতো চট করে রিফিল করার সুযোগ এখনো সব জায়গায় নেই। তাই ডেলিভারির মাঝপথে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া মানেই সেই দিনের কাজের ক্ষতি। তবে এখন অনেক সোয়াপিং স্টেশন (ব্যাটারি বদলানোর জায়গা) তৈরি হচ্ছে যা এই সমস্যা কমিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া অনেক ভারি মালামাল বহনের ক্ষেত্রে ই-ভি এর শক্তি পেট্রোল বাইকের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে।


শেষ কথা

বাস্তব হিসাব বলছে আপনি যদি ডেলিভারি পেশায় লম্বা সময় টিকে থাকতে চান এবং নিজের কষ্ট করা টাকা বাঁচাতে চান তবে ই-ভি ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে লাভজনক। শুরুর দিকে ই-ভি কিনতে হয়তো একটু বেশি টাকা খরচ হয় কিন্তু তেলের টাকা বাঁচিয়ে সেই খরচ মাত্র কয়েক মাসেই তুলে আনা সম্ভব।

Published by Rafi Kabir

Latest Bikes

Tailg Orca F50

Tailg Orca F50

Price: 84990

Syntax Gen Z Pro

Syntax Gen Z Pro

Price: 190000

Eloop CR7

Eloop CR7

Price: 170000

View all Sports Bikes