Keeway RKS 125
4
সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ
বাইক নামটির সাথে যুক্ত আছে একটি ছেলের হাজার দিনের স্বপ্ন। একটি ছোট বাচ্চা যেমন খেলনা পেলে খুশি হয় তেমনি বাইক ও একটি ছেলের কাছে খেলনা পাওয়ার আনন্দের মত । আর তাই বাইক আমার কাছে বড়দের খেলনা। আর এই সখের খেলনাটি কেমন হবে তা নির্ভর করবে সাধ্য ও প্রয়োজনীয়তার উপর। একজন মানুষ দুটি কারণে বাইক কিনবে প্রথমত সখ এরপর প্রয়োজনীয়তা। কারন আপনার হাজার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও, যদি বাইকের প্রতি সখ বা ভালোবাসা না থাকে তাহলে আপনার বাইক কেনা হবে না। আর এই সখ আর ভালোবাসা থেকেই আমার keeway rks125 এই বাইক কেনা যেটা এখন সখ পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীও বটে। আর আমাদের এই স্বপ্ন পূরনে কিছু প্রিয় মানুষের হাত থাকে যারা পর্দার পিছনেই থেকে যায়। ভালোবাসা রইলো পর্দার অন্তরালে থাকা মানুষগুলোর জন্য।
*** কেন keeway rks 125?
ঐ যে সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ,বাইক কেনার সময় প্রথম যে বাধা আসে সেটা হলো বাজেট। আবার শুধু বাইক হলেই তো হবে না লুকও তো একটু লাগবে। তাই এই বাজেটে এমন লুক আর ফিচার এই বাইক ছাড়া আর পাইনি, হোক না চাইনিজ বাইক, সখের তোলা নাকি ৮০ টাকা। তাই এতো দিক না চিন্তা করে আমার এই বাইক কেনা।
***এবার আসি এই বাইকের ভালো দিক কি কি :-
১। প্রথমেই এই বাজেটে এর লুক যেকোনো তরুণ বাইকারকে আক্রিস্ট করবে।
২। চাইনিজ বাইক হওয়া সত্বেও এর বিল্ড কোয়ালিটি আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে।
৩। পিলিয়ন সিট যথেষ্ট কমফোর্ট।
৪। গিয়ার শিফ্টিং স্মুথ ও ইনফরমেটিভ মিটার কনসোল
৬। ১২৫ সিসি হওয়া সত্বেও পিছনে টায়ারটা (১১০/৮০) তুলনামূলক একটু মোটা।
*** বাইকের খারাপ দিক :-
১। ইন্জিন অনেক গরম হয়
২। ৮০ কি:মি + গতির পর ভাইব্রেশন ফিল হয়
৩। রেডি পিকআপ কম যার ফলে হাইওয়ে তে ওভারটেকিং এ কনফিডেন্ট পাওয়া যায় না।
৪। মাইলেজ তুলনামূলক কম আরো বেশি হলে ভালো হত।
৫।স্পেয়ার পার্টস ও রিসেল ভেলু কম।
*** মাইলেজ : সিটিতে ৩৫+ এবং হাইওয়েতে ৩৮+
*** পিকআপ : ২০০০ কি:মি পর্যন্ত এর রেডি পিকআপ বেশ ভালো ছিল কিন্তু আস্তে আস্তে তা কমে গেছে।
*** কমফোর্ট : রাইডিং পজিশন ও পিলিয়ন সিট যথেষ্ট কমফোর্ট।
*** ব্রেক : এর সামনে ডিক্স ও পিছনে ড্রাম ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্রেকিং এ যথেষ্ট কনফিডেন্ট পাওয়া যায় তবে পেনিক ব্রেক করলে এর সামনে চাকা স্কিড করে।
*** আফটার সেলস সার্ভিস : যদিও আমি আমার অফিসিয়াল ফ্রী সার্ভিস গুলো ভালো ভাবেই অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টার থেকে করিয়েছিলাম কিন্তু এখন লোকাল সার্ভিসিং সেন্টারেই করাই আর খরচ বলতে আমার বাইক এখন পর্যন্ত ৬৫০০+ কি:মি চলেছে এখন পর্যন্ত বড় কোন পার্টস পরিবর্তন করতে হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি ব্যটারি পরিবর্তন করতে হবে।
___সব বাইকেরই ভালো খারাপ দিক থাকবে। আপনার সাধ্যের মধ্যে মন যেটাকে চায় সেটাই কেনা উচিত। আর যত্ন করে চালালে যেকোন বাইক থেকেই ভালো পারফরমেন্স পাওয়া সম্ভব__।