আন্তর্জাতিক বাইকিং দুনিয়ায় কিছু নাম আছে যা শুধু রাস্তার পরিচয় নয়—এক ধরনের অনুভূতি। যুক্তরাষ্ট্রের রুট ৬৬ যেমন কিংবদন্তি, তেমনি যুক্তরাজ্যের এ ৫৯ সড়কের পাশে গড়ে ওঠা Route 59 Cafe বাইকারদের কাছে এক আবেগের নাম।


রুট ৫৯ ক্যাফে আন্তর্জাতিক বাইকিং কম্যুনিটির ঐক্যের এক উজ্জল ইতিহাস
Route 59 Cafe যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ার ডেলসের প্রান্তে একটি পুরোনো পেট্রোল পাম্পের জায়গায় স্থাপিত একটি বাইকার্স ক্যাফে। প্রায় একযুগ আগে ক্যাফেটি চালু করেন অড্রে ডুক্সবারি। শুরু থেকেই এটি হয়ে ওঠে বাইকারদের নিয়মিত আড্ডাস্থল। দূরপাল্লার রাইডে বের হওয়া মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য এটি ছিল বিশ্রাম, গল্প আর উষ্ণতার জায়গা।
কিন্তু হঠাৎ এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান অড্রের ২১ বছর বয়সী ছেলে জশ ডুক্সবারি। তিনি ছিলেন ক্যাফের প্রধান শেফ এবং একজন শৌখিন মোটরসাইকেলপ্রেমী। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো ইংল্যান্ডের বাইকিং কমিউনিটিকেই নাড়া দেয়। একসময় আশঙ্কা দেখা দেয় ক্যাফেটির যাত্রা বুঝি এখানেই শেষ।
সেই সংকটের মুহূর্তে সামনে আসেন ক্যাফের দীর্ঘদিনের কর্মী জ্যানেট ইউস্টন। অড্রেকে সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি পরদিনই ক্যাফে খুলে দেন। বাইকারদের উদ্দেশ্যে জানান, বাইকাররা স্বেচ্ছায় সাহায্য করলে তিনি তাদের খাবার দেবেন। ক্যাফে পুনঃপরিচালনার এই আহ্বানে সাড়া দেন অনেকে।
বেদনা-বিধুর প্রতিকুল সেই সময়ে বাইকাররা কেউ রান্নাঘরে, কেউ সার্ভিসে, কেউ পরিষ্কারে যে যেভাবে পেরেছেন হাত বাড়িয়েছেন। আর এর বিনিময়ে বাইকাররা অর্থ পাননিবা নেননি। বরং তারা পেয়েছেন গরম নাস্তা আর বাইকারদের মিলনমেলার একটি প্রিয় জায়গাকে বাঁচিয়ে রাখার সন্তুষ্টি।

এভাবেই বাইকারদের ঐক্যে টিকে যায় রুট ৫৯ ক্যাফে। আজও এর পার্কিং এলাকায় সারি সারি মোটরসাইকেল দেখা যায়। এটি শুধু ইংল্যান্ডের নয় বরং আন্তর্জাতিক বাইকারদের কাছেও একটি প্রিয় মিলনস্থল। রুট ৫৯ ক্যাফের গল্প তাই শুধু একটি ক্যাফে ঘিরে নয়। এটি এখন হয়ে উঠেছে বাইকিং কমিউনিটির ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা ও ঐক্যের এক বাস্তব উদাহরণ ও একটি ইতিহাস।
দেশ ও বিদেশের বাইক ও বাইকিং নিয়ে তথ্যের জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।




























Discussion 8 Comments