বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজার দীর্ঘদিন ধরে মূলত কমিউটার ও স্পোর্টস সেগমেন্টকেন্দ্রিক ছিল। তবে গত কয়েক বছরে রাইডারদের মানসিকতা ও রাইডিং প্যাটার্নে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন বাইক শুধু অফিস যাতায়াতের বাহন নয় বরং ভ্রমণ, লং রাইড ও লাইফস্টাইলের অংশ। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইক বা এডিভি এর সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ নিচ্ছে।


বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইকের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের রাস্তার বাস্তবতা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইকের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসেবে বেশ কিছু কারন দাড় করানো যায়। শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা, হাইওয়ের অসম পিচ, গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা, চরাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকা—সব মিলিয়ে আমাদের দেশের রোড কন্ডিশন আদর্শভাবে “মাল্টি-টেরেইন”ধরনের। সাধারণ কমিউটার বা স্পোর্টস বাইক যে রাস্তাগুলোতে সীমাবদ্ধতা দেখায় সেখানে বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স, লং-ট্রাভেল সাসপেনশন ও আপরাইট রাইডিং পজিশনের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইক বাস্তব ব্যবহারে বেশি কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়াও বর্তমানে দেশের তরুণ রাইডারদের মধ্যে লং রাইড ও বাইক ট্যুরের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভ্লগ ও বাইকিং কমিউনিটি কালচার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাইক নিয়ে ভ্রমণের প্রবণতা আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইক এই ধরনের রাইডের জন্য উপযোগী হওয়ায় ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে সকল মোটরসাইকেলের দাম
বাংলাদেশের বাজারে বাস্তব দিক বিবেচনায় মাল্টিপারপস অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইকই বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং ট্যুরিং সেগমেন্টে তেমন কোন অপশন না থাকলেও বর্তমানে মোটরসাইকেল কোম্পানিগুলো বাইকারদের চাহিদা বিবেচনায় এদিকে আগ্রহী হচ্ছে। ১৫৫ থেকে ২৫০ সিসির অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং ট্যুরিং বাইকগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাল্টিপারপস পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। এই এডিভি গুলো শহরের ট্রাফিকে ব্যবহার করা যায়, আবার লং রাইডেও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইকের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সার্ভিস নেটওয়ার্ক, স্পেয়ার পার্টস, টায়ার, ট্রাভেল গিয়ার ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট। এই দিক টি নিশ্চিত করতে পারলে একদিকে এক্সেসরিজ ও গিয়ার মার্কেট সম্প্রসারণ হবে অপরদিকে তা অর্থনীতিতেও অবদান রাখবে। এছাড়াও দেশের মোটরসাইকেল মার্কেটের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যেসব ব্র্যান্ড শক্ত আফটার-সেলস সাপোর্ট দিতে পারে না সেগুলো বাজারে টেকসই হয় না। ভবিষ্যতে যেসব ব্র্যান্ড স্থানীয়ভাবে নির্ভরযোগ্য সার্ভিস, প্রশিক্ষিত মেকানিক ও যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারবে, তারাই এই সেগমেন্টে সফল হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায় বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইকের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। দেশের রাস্তার বাস্তবতা, ভ্রমণপ্রবণ রাইডারদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাইকিং কালচারের পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং বাইক একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য সেগমেন্টে পরিণত হতে পারে খুবই শীঘ্রই। আমরা আশাবাদী আরো উচ্চ সিসির অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিং ট্যুরিং বাইকগুলো শীঘ্রই বাংলাদেশের রাস্তায় দেখতে চলেছি।
বাইক বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও আপডেট এর জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।




























Discussion 8 Comments