CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

মোটরসাইকেল এর ব্যাটারি সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন ও তার উত্তর

মোটরসাইকেল এর ব্যাটারি সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন ও তার উত্তর
0 Add us on
Md Kamruzzaman Shuvo
0 Followers
Published: October 13, 2016
Add on
Listen to article
8 min read

মোটরসাইকেল ব্যাটারি কতক্ষণ চার্জ দিয়েই যাবে ?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমি তিনটা মোটরসাইকেল বেছে নিচ্ছি পালসার, এফ জি/ফেজার এবং আর১৫। তিনটা প্রাকটিক্যাল উদাহরণ। একদম পানির মতো, চলুন শুরু করি।

এখানে বিষয়টা হলো আমরা যত দ্রুত ব্যাটারি খরচ করি সেটা আমাদের মোটরসাইকেল কত দ্রুত রিচার্জ করে দিতেছে? আরেক ভাবে বললে মোবাইল ফোনে চার্জার লাগিয়ে গেমস খেলা ভাবতে পারেন। গেমস খেলতেছি ব্যাটারি খরচ হছে, চার্জার একই সাথে ব্যাটারি রিচার্জ করে যাচ্ছে । রিচার্জের শক্তি বেশি হলে গেমস খেলতে খেলতে ব্যাটারি ফুল হয়ে যাবে। সেইম বেসিক প্রিন্সিপাল মোটরসাইকেল এর বেলাতেও প্রযোজ্য। হেডলাইট জ্বালাইতেছি, হর্ন দিতেছি ব্যাটারি খরচ হচ্ছে, একই সাথে অলটারনেটর ব্যাটারি রিচার্জ করে যাচ্ছে।

মোটরসাইকেল এর ব্যাটারি সংক্রান্ত সকল প্রশ্ন ও তার উত্তর


তিনটা মোটরসাইকেল পালসার, এফ জি / ফেজার ও আর১৫ কার কত এম্পায়ার ব্যাটারি ? 

ক) পালসার ব্যাটারির শক্তি : ১২ ভোল্ট ৯ এম্পায়ার অর্থাৎ ১০৮ ওয়াট ( = ১২ * ৯ )

খ) এফজি/ফেজার ব্যাটারির শক্তি: ১২ ভোল্ট ৫ এম্পায়ার অর্থাৎ ৬০ ওয়াট (= ১২*৫)

গা) আর১৫ ব্যাটারির শক্তি : ১২ ভোল্ট ৩.৫ এম্পায়ার অর্থাত ৪২ ওয়াট (= ১২*৩.৫)

৩ ঘন্টা ৩ এম্পায়ার ( =৩৬ওয়াট ) করে খরচ করলে।

২ ঘন্টা ৪.৫ এম্পায়ার ( = ৪৫ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

অথবা ১ ঘন্টা চলবে ৯ এম্পায়ার ( = ১০৮ ওয়াট ) করে খরচ করলে ।

৩ ঘন্টা ১.৬৭ এম্পায়ার ( = ২০ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

বা ২ ঘন্টা ২.৫ এম্পায়ার ( = ৩০ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

অথবা ১ ঘন্টা ৫ এম্পায়ার ( = ৬০ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

৩ ঘন্টা ১.১৬ এম্পায়ার ( = ১৩ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

২ ঘন্টা ১.৭৫ এম্পায়ার ( = ২১ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

১ ঘন্টা ৩.৫ এম্পায়ার ( = ৪২ ওয়াট ) করে খরচ করলে।

পালসার, এফ জি / ফেজার ও আর১৫ কে কত জোরে রিচার্জ করে ?

ব্যাটারি রিচার্জ হয় অলটারনেটর থেকে উৎপন্ন শক্তি দিয়ে। পালসার এই শক্তি উৎপাদন করতে পারে মাত্র ৬০ ওয়াট, অন্যদিকে এফ জি / ফেজার উৎপাদন করে ১২৫ ওয়াট, ইয়ামাহা আর১৫ করে ১৬০ ওয়াট। বোঝাই যাচ্ছে আর১৫ অনেক জোরে কারেন্ট উৎপাদন করে। এই কারেন্ট এসি অবস্থায় থাকে। আমাদের দরকার ডিসি কারেন্ট।

আমরা যখন মোবাইল এ চার্জার লাগাই কি ঘটে? মোবাইল চার্জার ঘরের ২২০ এসি ভোল্ট গ্রহণ করে, এটাকে ডিসি’তে রূপান্তর করে, ছোট ব্যাটারির উপযোগী সীমিত ৪ ভোল্ট নামিয়ে রিচার্জ করতে থাকে। একইভাবে মোটরসাইকেলের রেগুলেটর রেকটিফায়ার ডিভাইসটি এসি ভোল্ট গ্রহণ করে, ডিসি’তে রূপান্তর করে, ১২ ভোল্ট ব্যাটারির উপযোগী ১৪ ভোল্ট এ নামিয়ে রিচার্জ করতে থাকে। মোটরসাইকেল চালু তো ব্যাটারি রিচার্জও চালু।

পালসার মোটরসাইকেল এর রেগুলেটর রেকটিফায়ার ব্যাটারি কে সর্বোচ্চ দিতে পারে ৫.৫৬ এম্পায়ার।

ইয়ামাহা এফ জি / ফেজার এর রেগুলেটর রেকটিফায়ার সর্বোচ্চ দিতে পারে ২০ এম্পায়ার।

ইয়ামাহা আর ১৫ এর রেগুলেটর রেকটিফায়ার সর্বোচ্চ দিতে পারে ১৪ এম্পায়ার।

অর্থাৎ, ব্যাটারি রিচার্জ এর গতিতে ইয়ামাহা এফ জি / ফেজার (২০ এম্পায়ার ) সবার আগে।

কারেন্ট উৎপাদন দিক থেকে ইয়ামাহা আর ১৫ সবার আগে (১৬০ ওয়াট) .।

ব্যাটারি ধারণ ক্ষমতার দিক থেকে পালসার সবার আগে (৯ এম্পায়ার ব্যাটারি ) .।

ব্যাটারি লোড টেস্টিং 

নতুন মোটরসাইকেল কেনার পর বাজার থেকে এলইডি হেডলাইট বাল্ব, ফগ লাইট, ডাবল পি৯০ হর্ন প্রভৃতি ইনস্টল করলাম। এখন জানতে চাচ্ছি এসব কিছুর লোড আমার মোটরসাইকেল ব্যাটারি কোনো সমস্যা ছাড়া নিতে পারবে কী? দীর্ঘ মেয়াদে সব কিছু নিরাপদে ব্যবহার করতে পারব কিভাবে বুঝব?

ব্র্যান্ড এর একটা মুল্য আছে। অসরাম ফিলিপস এর লাইট যে সার্ভিস দিবে, তা সস্তা চাইনিজ বংশাল লাইট কখনো দিবে না। এক্ষেত্রে আপনার মোটরসাইকেলের কোনো দোষ নাই। ব্যাটারি লোড টেস্টিং হলো সব কিছু চালানো, জ্বালানো অবস্থায় ব্যাটারি তা হাসি মুখে গ্রহণ করছে কি না তা জানা। এজন্য আমাদের দরকার হবে একটা ভোল্ট মিটার। আসে পাশের কোনো ইলেকট্রনিক্স এর দোকানে মোটরসাইকেল নিয়ে কাজটা করতে পারেন।

মোটরসাইকেল চালু করুন। হেডলাইট, পার্কিং লাইট, এলইডি লাইট আর যা আছে সব অন করুন। এখন ব্যাটারির ভোল্টেজ মাপুন।

ব্যাটারির ভোল্ট ১২.৬০ = ব্যাটারি খরচ এবং রিচার্জ সমানে সমান। এটা ভালো।

ব্যাটারির ভোল্ট ১২.৬০ থেকে কম = ব্যাটারি যতটুকু রিচার্জ হচ্ছে, তার থেকে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে। এটা খারাপ। মোটরসাইকেল লোড নিতে পারছে না।

ব্যাটারির ভোল্ট ১২.৮০ থেকে বেশি = ব্যাটারি যতটুকু খরচ হচ্ছে , তার থেকে বেশি রিচার্জ করতেছে। এটা ভালো লক্ষণ। মোটরসাইকেল নিশ্চিন্তে লোড নিতে পারছে।

সাইড নোটস : ১ ) মোটরসাইকেল স্টক ওয়ারিং কাটাকাটি করবেন না। ২ ) নতুন কিছু এমন ভাবে ইনস্টল করুন, যাতে যে কোনো সময় পূর্বের অবস্থায় ফেরত যাওয়া যায়। ৩ ) তার জোড়া এমন ভাবে দিন যা হবে মজবুত পানিরোধী, তাইলে দীর্ঘমেয়াদে কিছু হবে না। ৪ ) তার এলোমেলো না রেখে স্টক ওয়ারিং এর পাশে পাশে টানুন।

ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণ

ব্যাটারি রক্ষনাবেক্ষণ খুব একটা প্রয়োজন পরে না। এখন বেশির ভাগ লিড এসিড ব্যাটারি সিলড অবস্থায় থাকে। যেগুলো সিলড থাকে না, ব্যটারী পানি দাগ সমান সমান আছে কি না দেখবেন। না থাকলে বা কমে গেলে শুধু ব্যটারির পানি দিয়ে রিফিল করবেন দাগ সমান। মোটরসাইকেল সার্ভিসিং এর সময় সেখানে রিচার্জ করে নিবেন। ব্যাটারির দোকানে উচ্চ এম্পায়ার এ রিচার্জ করে, এটা বাস ট্রাক গাড়ির ৩৫, ৫০, ৬০ এম্পায়ার ব্যাটারির জন্য ঠিক আছে । মোটরসাইকেল এর ব্যাটারি মাত্র ৩, ৫, ৯ এম্পায়ার হয়। ব্যাটারি টার্মিনাল শুকনা রাখবেন না, সেখানে সাদা নিল বালু বালু করোসান হতে পারে। এটা দীর্ঘমেয়াদে পসিটিভ নেগেটিভ টার্মিনাল খেয়ে ফেলে, তারের জয়েন্ট খেয়ে ফেলে। টার্মিনাল গুলো ভালো করে পরিষ্কার করে মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি লাগায় দেন। আর করোসান হবে না।

বাজারে কালো রঙের কিছু ব্যাটারি পাওয়া যায়। ইউ পি এস এর ভিতরে এরকম ব্যাটারি থাকে। এগুলা মোটরসাইকেল এ লাগাবেন না। এগুলা ডিপ সাইকেল ব্যটারী বা অনেকক্ষণ ধরে নির্দিষ্ট খরচে চলার জন্য তৈরী। মোটরসাইকেল এ আমরা যে ব্যাটারি ব্যবহার করি এগুলা হুট করে প্রচুর খরচ করার জন্য তৈরী। যেমন স্টার্টার মোটর ১২৫ ওয়াট দুই চার সেকেন্ড এ প্রচুর খরচ করে। ইঞ্জিন চালু হয়ে গেলে একটু পরে রিচার্জ হতে থাকে। এসব ব্যাটারির ৮০% চার্জ সবসময় মজুদ থাকে। এদের মেন কাজ হলো cca বা কোল্ড ক্রানক এম্পায়ার বা হুট করে প্রচুর খরচ করার জন্য প্রস্তুত থাকা । ব্যাটারি পর্ব এখানেই শেষ।

--Priyo Nil Akash

টেকনিক্যাল বিষয়

Discussion 8 Comments