মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন না করলে হতে পারে বিপদ

This page was last updated on 15-Feb-2026 05:45pm , By Badhan Roy

আমাদের মধ্যে অনেকেই সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল ক্রয় বা বিক্রয় করার পর মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে উদাসীন থাকেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, সময়মত মালিকানা পরিবর্তন না করার ফলে হতে পারে বড় ধরনের বিপদ? 

এই লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করব মালিকানা পরিবর্তন না করলে কি কি সমস্যা হতে পারে এবং মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতার করণীয় কি।

 

মোটরসাইকেলের মালিকানা পরিবর্তন না করলে হতে পারে বিপদ

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ২১ ধারা মোতাবেক কোন যানবাহন ক্রয় বা হস্তান্তর করার পরে ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অবশ্যই মালিকানা পরিবর্তন করতে হবে। যদি মালিকানা পরিবর্তন না করা হয় তবে ৭৪ ধারা অনুযায়ী অনধিক ১ মাসের কারাদন্ড অথবা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারেন। 

এছাড়াও বাইকটি কোন অপরাধ বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যাবহার হয়ে থাকলে যার নামে মালিকানা আছে তাকেই সর্বপ্রথম আইনের আওতায় আনা হবে। সম্প্রতি এ ধরনের কিছু ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে মালিকানা সময় মত পরিবর্তন না করা হলে অনেক হয়রানির শিকার হতে হবে।

 

মালিকানা পরিবর্তনের জন্য করণীয়

মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই কিছু করণীয় রয়েছে। 

ক্রেতার করণীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ‘টিও’ ও ‘টিটিও’ ফরম জমা। [এ দু’টি ফরমসহ অন্যান্য ফরম এ ওয়েবসাইটের DOWNLOAD FORMS থেকে পাওয়া যাবে]

২। প্রয়োজনীয় ফি জমা দানের রশিদ;

৩। ক্রেতার TIN সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি 

৪। মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ (উভয় কপি)/ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

৫। ছবিসহ নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ক্রেতার হলফনামা;

৬। সংশ্লিষ্ট নমুনা স্বাক্ষর ফরমে ত্রেতার নমুনা স্বাক্ষর এবং ইংরেজীতে নাম, পিতার/স্বামীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও ৩ কপি স্ট্যাম্প আকারের রঙ্গীন ছবিসহ ফরমের অন্যান্য সকল তথ্য প্রদান, তবে ক্রেতা কোন প্রতিষ্ঠান হলে উপরে বর্ণিত কাগজপত্রসহ (হলফনামা ব্যতিত) অফিসিয়াল প্যাডে চিঠি।

বিক্রেতার করণীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। ফরম ‘টিটিও’ এবং বিক্রয় রশিদে স্বাক্ষর;

২। বিক্রেতার ছবিসহ বিক্রয় হলফনামা;

৩। বিক্রেতা কোম্পানী হলে কোম্পানীর লেটার হেড প্যাডে ইন্টিমেশন, বোর্ড রেজিুলেশন ও অথরাইজেশন পত্র প্রদান;

৪। মোটরযানটি ব্যাংক অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট দায়বদ্ধ থাকলে দায়বদ্ধকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত ছাড়পত্র সংগ্রহ করে তা দাখিল করা;


ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা বদলীর ক্ষেত্রে করণীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১। পূরণকৃত ও স্বাক্ষরিত ‘টিও’ ও ‘টিটিও’ ফরম [এ দু’টি ফরমসহ অন্যান্য ফরম এ ওয়েবসাইটের DOWNLOAD FORMS থেকে পাওয়া যাবে];

২। কোর্ট/স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ওয়ারিশ সংক্রান্ত সনদ;

৩। প্রয়োজনীয় ফি জমা দানের রশিদ;

৪। একাধিক ওয়ারিশ থাকলে প্রথম ওয়ারিশের TIN সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি (ভাড়ায় চালীত নহে এমন কার, জিপ, মাইক্রোবাস-এর ক্ষেত্রে)

৫। মূল রেজিস্ট্রেশন সনদ (উভয় কপি)/ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট(প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);

৬। ছবিসহ নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা প্রাপ্তি সংক্রান্ত ওয়ারিশগণের হলফনামা [একাধিক ওয়ারিশ থাকলে এবং একজনের নামে মালিকানা প্রদান করা হলে সেক্ষেত্রে অন্যান্য ওয়ারিশগণ কর্তৃক সকলের ছবিসহ নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে আর একটি হলফনামা];

৭। নমুনা স্বাক্ষর ফর্মে নমুনা স্বাক্ষর এবং ইংরেজীতে নাম, পিতার/স্বামীর নাম, পূর্ণ ঠিকানা ও ৩ কপি স্ট্যাম্প আকারের রঙ্গীন ছবিসহ ফরমের অন্যান্য তথ্য পূরণ। 

উল্লেখ্য, যে বিআরটিএ এর অধীনে উক্ত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা আছে ঐ বিআরটিএ বরাবরই মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন করতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই বিআরটিএ তে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে। 

সবার প্রতি আমাদের আহবান, মোটরসাইকেল বিক্রয় বা ক্রয় করার সাথে সাথেই মালিকানা পরিবর্তন করে নিরাপদ সড়ক এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সহযোগিতা করবেন।

 

বাইক বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেট এর জন্য বাইক বিডির সাথেই থাকুন।