ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বর্তমান জরিমানা ও বিস্তারিত তথ্য - ২০২৬
This page was last updated on 20-Jan-2026 12:10pm , By Badhan Roy
সম্প্রতি বিআরটিএ চেয়ারম্যান ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত সড়ক পরিবহন আইনের ধারা এবং জরিমানার পরিমান সম্পর্কে অনেকের জানা না থাকায় প্রতিদিন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে থাকেন।
এই লেখায় আমরা সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী আইনের ধারা এবং জরিমানা সহ বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করব।

ড্রাইভিং লাইসেন্স সহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বর্তমান জরিমানা - ২০২৬
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত মোটরযান এবং গণপরিবহন চালনার অনুমতিপত্র ব্যতীত গণপরিবহন চালনা করা হলে অনধিক ২৫(পঁচিশ) হাজার টাকা জরিমানা বা অনধিক ৬ মাস কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড প্রদান করা হবে।

ধারা ৬৯
এই ধারায় বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ ব্যতীত ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রস্তুত, নবায়ন অথবা নকল, ভুয়া বা জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বা ব্যবহার করা হলে অনধিক ২ বছর, ন্যূনতম ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা, ন্যূনতম ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে।
ধারা ৭২
মুলত এই ধারায় রেজিস্ট্রেশন ব্যাতীত মোটরযান চালনা করা হলে অনধিক ৬ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ নতুন বাইক রেজিস্ট্রেশন এর ক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে
ধারা ৭৩
অনুযায়ী বলা আছে রেজিস্ট্রেশন সনদ বিকৃত বা পরিবর্তন করা বা নকল, ভুয়া ও জাল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যাবহার করা হলে অনধিক ২ বছর, নূন্যতম ৬ মাসের কারাদন্ড অথবা অনধিক ৫ লাখ টাকা, নূন্যতম ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড প্রদান করা হবে।
ধারা ৭৪
সড়ক আইনে মোটরযানের মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তরের কারনে হস্তান্তরগ্রহিতা বা নতুন মালিক যদি রেজিস্ট্রেশন না করেন তবে অনধিক ১ মাস কারাদন্ড বা অনধিক ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।
আরও পড়ুনঃ বাইক বিক্রি করেছেন , মালিকানা পরিবর্তন করছে না , কি করনীয় ?
ধারা ৭৫
এই ধারায় মোটরযানের ফিটনেস সনদ ব্যতীত বা ফিটনেসের অনুপযোগী মোটরযান চালনা করা হলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
ধারা ৭৬
মোটরযানের ট্যাক্স টোকেন ব্যতীত বা মেয়াদউত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন ব্যবহার করে মোটরযান চালনা করা হলে অনধিক ১০(দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হবে।
ধারা ৭৭
এ বলা আছে রুট পারমিট ব্যতীত পরিবহন যান চালনা করা হলে অনধিক ৩ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ (বিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ট্যাক্স টোকেন রিনিউ করার পদ্ধতি। বিআরটিএ । জানুন বিস্তারিত
ধারা ৮০
অনুসারে গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ব্যতীত যাত্রী পরিবহন করা বা নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করা হলে অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড আরোপ করা হবে। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষসূচক ১ পয়েন্ট কর্তন করার কথাও প্রজ্ঞাপনে বলা আছে।
ধারা ৮৪
বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত কোন মোটরযানের কারিগরি বিনির্দেশ অমান্য করে আকার, আকৃতির পরিবর্তন (মডিফিকেশন) করা হয়ে থাকলে অনধিক ৩ বছর, নূন্যতম ১ বছর বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুনঃ বাইক মডিফিকেশন করলে কি মামলা হবে ? বিস্তারিত জানুন
ধারা ৮৫
সড়ক পরিবহন আইনে ট্রাফিক সিগনাল অমান্য করলে অনধিক ১ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে অপরাধী দন্ডিত হবেন।
ধারা ৮৬
বিআরটিএ অনুমোদিত ওজনের অতিরিক্ত ওজন বহন করে মোটরযান চালনা করা হলে অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা অনধিক ১ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে। চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসেবে দোষ সূচক ২ পয়েন্ট কর্তন করা হবে।
ধারা ৮৭
এই ধারায় মোটরযানের গতিসীমা লঙ্ঘন বা স্পিড লিমিট এর বেশি গতিতে মোটরযান চালালে অনধিক ৩ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ড প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসাবে দোষ সূচক ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে।
ধারা ৮৮
সড়ক আইন ২০২৫ তে বলা হয়েছে হাইড্রোলিক হর্ণ বা এই ধরণের কোন যন্ত্রাংশ মোটরযানে স্থাপন করা হলে অনধিক ৩ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। সাথে চালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত হিসাবে দোষ সূচক ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে।
ধারা ৯২
এই ধারার ৪৯ এর উপ-ধারা (১) এ সাধারণ নির্দেশাবলীর প্রথম অংশে উল্লেখিত নিয়মাবলী যেমন উল্টাদিকে মোটরযান চালানো, মোটরসাইকেলে ৩ জন আরোহন, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট না পরা, ফুটপাতের উপর মোটরযান চালানো সহ ইত্যাদি অপরাধের কারনে অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা অনধিক ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদানের বিধান রয়েছে।
৪৯ এর উপ-ধারা (১) এ সাধারণ নির্দেশাবলীর দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত নিয়মাবলী যেমন মোটরযান চালানোর সময় ফোন ব্যবহার, বিপরীত দিকের মোটরযান চালানোয় বিঘ্ন হয় এমন হাইবিম ব্যাবহার করে চালানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনধিক ১ মাসের কারাদন্ড বা অনধিক ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে। উভয় অংশের আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রেই চালকের অতিরিক্ত হিসাবে দোষ সূচক ১ পয়েন্ট কর্তন করা হবে।
ধারা ১০০
আবার কেউ যদি কোন অপরাধে পূর্বে শাস্তি প্রাপ্ত বা জরিমানা পাওয়ার পরে পুনরায় একই অপরাধ সংগঠিত করেন তবে পুনরায় সংগঠিত অপরাধের জন্য দ্বিগুণ জরিমানা বা দ্বিগুণ কারাদন্ডে দন্ডিত করা হবে।
ধারা ১০১ ও ১০২ ও ১০৩
অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মোটরযান পরিদর্শন, তল্লাশি ও তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া এবং কর্মকর্তার সাথে আক্রমণাত্মক আচরণ করা হলে অনধিক ১ মাসের কারাদন্ড, অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিআরটি সম্পর্কে সকল তথ্য ও আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করুন
সকলের প্রতি আন্তরিকভাবে অনুরোধ, মোটরসাইকেল চালনার সময় হেলমেট সহ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সাথে রাখুন, নিয়মিত ডকুমেন্টগুলো আপডেট রাখুন, ট্রাফিক আইন মেনে চলুন এবং চেকপোস্ট গুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করুন। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে তবেই আমাদের নিরাপদ সড়কের দাবি বাস্তবায়িত হবে।
বাইক ও বাইকিং বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেট এর জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।