ট্রাফিক আইনে মামলা বা জরিমানা হলে যেভাবে পুনর্বিবেচনা ও আপিল এর আবেদন করতে পারবেন

This page was last updated on 16-Jun-2026 12:46pm , By Badhan Roy

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান রয়েছে। অনেকেই মামলা হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকেন। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, ট্রাফিক মামলাতে আইনিভাবে পুনর্বিবেচনা ও আপিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আজ আমরা বিস্তারিত জানব কিভাবে ও কোথায় পুনর্বিবেচনা ও আপিলের আবেদন করতে হয়।

 

পুনর্বিবেচনা ও আপিল সম্পর্কে আইনে কি বলা আছে?

বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত গ্যাজেট এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর দ্বাদশ অধ্যায় এর ১০৭ ধারায় এই পুনর্বিবেচনা ও আপিলের কথা বলা হয়েছে। 

ধারা ১০৭ এর উপ-ধারা (১) অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি নবম অধ্যায় ব্যতীত এই আইনের অধীন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ হনতাহলে তিনি উক্ত আদেশ প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের নিকট উক্ত আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

উপ-ধারা (২) অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত দ্বারা সন্তুষ্ট না হনতাহলে তিনি উক্ত সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপিল করতে পারবেন।

উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী এই ধারার অধীন পুনর্বিবেচনার আবেদন দাখিলআপিল দায়ের ও উহা নিষ্পত্তির পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

অর্থাৎ, বিধি মোতাবেক মামলা বা জরিমানার বিরুদ্ধে পুনর্বিবেচনা এবং আপিলের আবেদন করা যাবে। 

যেভাবে আবেদন করতে হবে 

পুনর্বিবেচনার আবেদন সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) বা যে এলাকায় অপরাধ সংগঠিত হয়েছে সেখানকার ট্রাফিক অফিসে করতে হবে। উল্লেখ্য, বিআরটিএ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট যদি মামলা বা জরিমানা করে থাকেন তবে সেই আদেশের সার্টিফাইড কপি উত্তোলন করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিসি অফিস) বা মহানগর এলাকার ক্ষেত্রে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আপিল/পুনর্বিবেচনার আবেদন করতে হবে

আবেদন করার জন্য সর্বপ্রথম অনলাইন বা বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ফরম-৪২ সংগ্রহ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় আবেদনের শীর্ষে চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বরাবর সম্বোধন করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রে অভিযুক্তের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার, অভিযোগ বা অপরাধ কিংবা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, কতৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিবরণ এবং পুনর্বিবেচনার কারণ হিসেবে যুক্তি প্রদর্শন নির্ভুলভাবে করতে হবে।

যদি পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয় তবে অভিযুক্ত ব্যাক্তি চাইলে আপিল করতে পারবেন। আপিল করার ক্ষেত্রে একই ভাবে অনলাইন বা বিআরটিএ কার্যালয় থেকে ফরম-৪৩ সংগ্রহ করতে হবে। ফরম পূরণের সময় আবেদনের শীর্ষে সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় বরাবর সম্বোধন করে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এরপর উপরে উল্লেখিত একই ধাপ গুলো অনুসরণ করে পুনর্বিবেচনায় গৃহিত সিদ্ধান্তের বিবরণ এবং আপিলের পক্ষে যৌক্তিক কারন প্রদর্শন করতে হবে। 

মামলা, জরিমানা বা কতৃপক্ষের আদেশ পাওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে এই আবেদনটি অবশ্যই কতৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হবে। পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হলে আপিলের আবেদন খারিজ আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে। অন্যথায় আবেদন বা আপত্তি কোন অবস্থাতেই গৃহীত হবে না।

আবেদনের সাথে যা যা জমা দিতে হবে:

১. পূরণকৃত ফরম ৪২ অথবা ফরম ৪৩

২. অভিযুক্ত ব্যাক্তি যে আদেশ, মামলা বা জরিমানার বিরুদ্ধে আবেদন করছেন সেই মূল আদেশনামা বা জরিমানার স্লিপ/মামলার ফটোকপি

৩. অভিযুক্ত ব্যাক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।

৪. গাড়ি বা মোটরসাইকেলের হালনাগাদ কাগজপত্র (ব্লুবুক, ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, স্মার্ট কার্ড) এবং চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি।

৫. পুনর্বিবেচনার সপক্ষে যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ বা লিখিত ব্যাখ্যা

৬. আপিলের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা খারিজ হওয়ার সিদ্ধান্তের কপি। 

মোটরসাইকেল সহ সকল মোটরযান চালকের প্রতি আমাদের আহবান, যদি মনে করেন আপনার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা শাস্তির আদেশ পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, অথবা শাস্তির পরিমাণ বা মেয়াদ কমানোর ব্যাপারে আপিল করা প্রয়োজন, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ না করে অবশ্যই নিয়ম মেনে সরকারের কাছে আবেদন করুন। তদন্তে আপনার আবেদনের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হলে অভিযোগ নিষ্পত্তি বা আপিলের দ্বারা শাস্তির ধরণ ও মেয়াদ কমানো সম্ভব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা এবং আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় শালীনতা বজায় রাখা প্রত্যেক সুনাগরিকর দায়িত্ব ও কর্তব্য।

 

বাইক বিষয়ক সকল তথ্য ও আপডেটের জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন।