CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

বাংলাদেশে অকশন বা নিলামের মোটরবাইক চালানো কি আইনত বৈধ?

বাংলাদেশে অকশন বা নিলামের মোটরবাইক চালানো কি আইনত বৈধ?
0 Add us on
Badhan Roy
1 Followers
Published: December 03, 2025
Add on
No audio available

বাংলাদেশে অকশন বা নিলামের মোটরবাইক চালানো কি আইনত বৈধ? প্রায়ই আমাদের কাছে অনেকে জানতে চান অকশন বা নিলামের বাইক ক্রয় করার পরবর্তীতে এই বাইকগুলো সড়কে চালানোর সময় কোন প্রকার আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয় কি না? 

সাধারণত অকশন বা নিলামের বাইকগুলো বাজারমূল্য থেকে অনেক কম মূল্যে ক্রয় করা যায় দেখে অনেকের মনেই এই প্রশ্নটি রয়েছে। নিলামের এই বাইকগুলো নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা এবং মতবাদ রয়েছে। এই লেখায় আমরা জানার চেষ্টা করব অকশন বা নিলামের বাইকগুলো আসলে ক্রয় করার পর রাস্তায় চালানো বৈধ কি না।

 

বাংলাদেশে অকশন বা নিলামের মোটরবাইক চালানো কি আইনত বৈধ?

নিলামের বাইক বা গাড়ি ক্রয় করার পূর্বে সর্বপ্রথম জানতে হবে নিলামের ধরন কি? আগে ভালভাবে বিজ্ঞপ্তি পড়ে জেনে ও বুঝে নিতে হবে নিলামটি আসলে কি ধরণের এবং কোন সংস্থা নিলামটি আয়োজন করছে। সাধারণত ২ ধরণের নিলাম আয়োজন করা হয়ে থাকে- স্ক্র্যাপ বা ভাঙ্গাড়ি হিসেবে অথবা পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করে ব্যাবহারযোগ্য হিসেবে। 

সাধারণত থানা বা আদালত থেকে যে নিলাম গুলো হয় এই বাইক বা গাড়ি গুলো বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারনে আটক করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর তার অধিকাংশই স্ক্র্যাপ বা ভাঙ্গাড়ি হিসেবে নিলাম করা হয়। এই বাইকগুলো ক্রয় করার পর সড়কে পুনরায় বৈধভাবে চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। ক্রেতা কেবলমাত্র যন্ত্রাংশ খুলে অন্য কাজে ব্যাবহার করতে পারবেন। 

অপরদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অথবা দূতাবাস কিংবা বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যে সকল গাড়ি বা বাইক নিলাম করা হয় সেই বাইকগুলো সাধারণত পুনরায় রেজিস্ট্রেশন যোগ্য ও মালিকানা পরিবর্তনযোগ্য হিসেবে নিলাম করা হয়। এই ধরণের বাইকগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে মালিকানা পরিবর্তন সাপেক্ষে পুনরায় সড়কে বৈধভাবে চালানোর অনুমতি প্রদান করা হয়। 

নিলামের বাইক বা গাড়ি কেনার পর কেমন আইনি জটিলতা হতে পারে? 

যদি আপনার ক্রয়কৃত বাইক বা গাড়িটি স্ক্র্যাপ হিসেবে সার্কুলার হয়ে থাকে তবে সেটা বৈধভাবে সড়কে চালানোর অনুমতি নেই। সড়কে চালানো হলে সড়ক পরিবহন আইনের ১০৮, ১০৯ ও ১১৫ ধারা মোতাবেক পুনরায় আটক ও জব্দ করা হবে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে। এর পরবর্তী ধাপ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরে ১৬৩ ধারা মোতাবেক পুনরায় স্ক্র্যাপ হিসেবে নিলাম করা হবে। 

নিলামের বাইক বা গাড়ি কেনার পর বৈধভাবে সড়কে চালানোর উপায় কি তাহলে? 

নিলামের বাইক বা গাড়ি যদি সড়কে বৈধভাবে চালাতে হয় তবে অবশ্যই পুনরায় ব্যাবহারযোগ্য অথবা মালিকানা পরিবর্তনযোগ্য নিলাম বিজ্ঞ্রপ্তির নিলামে অংশগ্রহণ করতে হবে। নিলাম বিজ্ঞপ্তির পেপার কাটিং এবং নিলামে অংশগ্রহনের প্রমাণপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বরাবর ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ছাড়পত্র পাওয়ার পর বিআরটিএ তে যোগাযোগ করতে হবে মালিকানা পরিবর্তন এবং পুনরায় নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের জন্য। অর্থাৎ, নিলামের গাড়ি ও বাইক বৈধভাবে সড়কে চালানো সম্ভব। অতএব যে সংস্থা থেকেই নিলাম হোক না কেন সর্বপ্রথম নিলাম বিজ্ঞপ্তি ভালভাবে পড়ার ও বোঝার পর নিলামে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ এবং যদি নিলামকৃত যানবাহন ব্যাবহার করার ইচ্ছা থাকে তবে অবশ্যই পুনরায় রেজিস্ট্রেশন ও ব্যাবহারযোগ্য যানবাহনের নিলামে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করা আবশ্যক।

আরও পড়ুনঃ বিআরটিএ সংক্রান্ত সকল কিছু বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন

 

বাইক বিষয়ক সকল জানা ও অজানা তথ্যের জন্য বাইকবিডির সাথেই থাকুন। 

 

তথ্যসূত্র- মো. মশিউর রহমান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, ঝিনাইদহ।

বিআরটিএ টিপস

Discussion 8 Comments