CFMOTO Bangladesh - Cool Life Cruising
Our Partners:
Lifan Advertisement
CFMoto Advertisement
BikeBikroy Advertisement
ELF Advertisement

করোনায় দেশের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন খাতে ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা

করোনায় দেশের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন খাতে ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা
0 Add us on
Ashik Mahmud Bangla
0 Followers
Published: April 27, 2020
Add on
Listen to article
8 min read

দেশের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন খাতের দুই সমিতি দাবি করেছে, এক মাসের সাধারণ ছুটিতে তারা ৬০০ কোটি টাকা পণ্য বিক্রির সুযোগ হারিয়েছে। আগামী ছয় বছরে তারা মোট ২০ হাজার কোটি টাকা প্রত্যাশিত বিক্রি হারাবে।  এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা বেশ কিছু দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি হলো মোটরসাইকেল এর নিবন্ধন ব্যয় কমানো। দুই সমিতি বলছে, এখন একটি মোটরসাইকেল নিবন্ধনে মোট দামের ২৫ শতাংশ ব্যয় হয়। পরিমাণের দিক দিয়ে গড়ে যা ২২ হাজার টাকা। তারা চায় এটা ৪ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হোক। এতে মোটরসাইকেল সহজলভ্য হবে। এ দাবি বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বেলার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ)মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএমইএবি)। 

করোনায় দেশের মোটরসাইকেল উৎপাদন খাতে ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা

runner-automobiles-limited-2020

তারা অর্থমন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, নৌ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়ে করোনাভাইরাসের কারণে তাদের ক্ষতি তুলে ধরে বিভিন্ন সহায়তা দাবি করে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিএমএএমএর সভাপতি ও উত্তরা মোটরসের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান এবং এমএমইএবির সভাপতি ও রানার অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান। ভারতের বাজাজ ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী উত্তরা মোটরস, জাপানের হোন্ডা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী বাংলাদেশ হোন্ডা লিমিডেট, ভারতের টিভিএস ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী টিভিএস অটো বাংলাদেশ, জাপানের ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী এসিআই মোটরস, সুজুকি মোটরসাইকেলের বিপণনকারী র্যানকন মোটরবাইক, বেনেলি ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী আফতাব অটোমোবাইলস, জংশেন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী রূপসা ট্রেডিং করপোরেশন ও লিফান ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী রাসেল ইন্ডাস্ট্রিজ বিএমএএমএর সদস্য। এমএমইএবির সদস্য রানার ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী রানার অটোমোবাইলস ও হিরো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল বিপণনকারী এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেড।

Also Read: করোনাকালীন সময়ে ঝুঁকিমুক্ত বাহনের শীর্ষে মোটরসাইকেল

এসব প্রতিষ্ঠান সবাই মিলে সরকারকে চিঠি দিয়ে কর্মীদের তিন মাসের বেতন দিতে ২ শতাংশ সুদে ৬০ কোটি টাকা এবং চলতি মূলধন হিসেবে ৪ শতাংশ সুদে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে। জানতে চাইলে বিএমএএমএর সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, 'বিগত কয়েক বছরে আমরা মোটরসাইকেল শিল্পে বিপুল বিনিয়োগ করেছি। যে সময়ে বিক্রি অনেক বৃদ্ধির কথা, তখনই করোনার ধাক্কা এল। আমাদের আশঙ্কা গত বছর যে পরিমাণ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, এবার তার ৫০ শতাংশ কম হতে পারে।   

Also Read: করোনায় দেশের মোটরসাইকেল উৎপাদন ও সংযোজন খাতে ক্ষতি ৬০০ কোটি টাকা

দুই সমিতির চিঠিতে বলা হয়, দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ৫ লাখ মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে, যা তিন বছর আগেও দেড় লাখ ইউনিট ছিল। এ খাতে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। এ খাত থেকে সরকারের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আসে। মোটরসাইকেল উৎপাদন, বিক্রি ও সংশ্লিষ্ট নানা কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান দুই লাখ লোকের। মোটরসাইকেল নিবন্ধন থেকে আরও এক হাজার কোটি টাকা সরকার পেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। বিপণনকারীরা সব সময়ই মোটরসাইকেল নিবন্ধন মাশুল কমানোর দাবি করেন। তাদের যুক্তি হলো, প্রতিবেশি দেশগুলোতে নিবন্ধন মাশুল অনেক কম। বাংলাদেশে বেশি বলে অনেকেই নিবন্ধনে আগ্রহী হন না। এতে সরকার রাজস্ব হারায়। চিঠিতে বলা হয়, দুই সমিতির আশঙ্কা আগামী বছরগুলোতে মোটরসাইকেলের চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমতে পারে। এ কারণ করোনার কারণে অর্থনৈতিক মন্দা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এ জন্য তারা চাহিদা চাঙা রাখতে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি করেছে। মতিউর রহমান বলেন, ‌'কোম্পানিগুলো যাতে টিকে থাকতে পারে এবং করোনা চলে গেলে মোটরসাইকেলের চাহিদা যাতে একেবারে কমে না চায়, সে জন্য আমরা কিছু নীতি সহায়তা চেয়েছি।'   

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ প্রথমআলো

খবর রানার

Discussion 8 Comments